আপওয়ার্কে বিড করার আগে ক্লায়েন্ট যাচাই করবেন যেভাবে

আপওয়ার্কে বিড করার আগে ক্লায়েন্ট যাচাই করবেন যেভাবে

On this page

    আপওয়ার্কে কাজ না পাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ প্রপোজাল খারাপ লেখা নয়। কারণ হলো ভুল কাজে বিড করা।

    আমি ২০১৭ সাল থেকে আপওয়ার্কে কাজ করছি। শুরুর দিকে আমিও যা পেতাম তাতেই বিড করতাম, আর ভাবতাম বেশি বিড করলেই বেশি কাজ পাব। বাস্তবে হয়েছে উল্টো। কানেক্ট শেষ হয়ে যেত, রিপ্লাই আসত না, আর যেসব ক্লায়েন্ট রিপ্লাই দিতেন তাঁদের অনেকের সঙ্গেই কাজ করাটা ছিল সময় নষ্ট।

    পরিবর্তন এসেছে যখন বিড করার আগে ক্লায়েন্ট যাচাই করা শুরু করলাম। কাজটা এক মিনিটেরও কম সময়ের, কিন্তু এটাই ঠিক করে দেয় আপনার কানেক্ট কোথায় খরচ হচ্ছে।

    Ad space, reserved

    প্রথমেই দেখুন: পেমেন্ট ভেরিফায়েড কি না

    জব পোস্টের ডান পাশে ক্লায়েন্টের তথ্য থাকে। সেখানে Payment verified লেখা না থাকলে বুঝতে হবে ক্লায়েন্ট এখনো কার্ড যুক্ত করেননি।

    নতুন ক্লায়েন্ট মানেই খারাপ নয়, অনেক ভালো ক্লায়েন্টের প্রথম কাজও কারো না কারো সঙ্গে শুরু হয়। কিন্তু আনভেরিফায়েড ক্লায়েন্টের কাজে বিড করা মানে ঝুঁকি নেওয়া, আর কানেক্ট সীমিত। শুরুর দিকে এই ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।

    হায়ার রেট আর রিভিউয়ের সংখ্যা আলাদা জিনিস

    অনেকে শুধু দেখেন ক্লায়েন্ট কত টাকা খরচ করেছেন। আসল তথ্যটা হলো hire rate, অর্থাৎ কতগুলো জব পোস্ট করে কতজনকে আসলে নিয়োগ দিয়েছেন।

    ২০টি জব পোস্ট করে ৩ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন এমন ক্লায়েন্ট মানে হায়ার রেট ১৫ শতাংশ। এমন পোস্টে বিড করলে আপনার কানেক্ট নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অনেকে বাজার যাচাইয়ের জন্য জব পোস্ট করেন, নিয়োগ দেওয়ার ইচ্ছা থাকে না।

    • হায়ার রেট ৭০ শতাংশের বেশি — ভালো, নিয়োগ দেওয়ার অভ্যাস আছে।
    • ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ — স্বাভাবিক, প্রপোজাল ভালো হলে সুযোগ আছে।
    • ৪০ শতাংশের নিচে — সাবধান, বিশেষ করে জব সংখ্যা বেশি হলে।

    ক্লায়েন্ট নিজে কী রিভিউ দেন সেটা পড়ুন

    এটাই সবচেয়ে কম ব্যবহৃত অথচ সবচেয়ে কাজের ধাপ। ক্লায়েন্টের প্রোফাইলে গিয়ে দেখুন তিনি আগের ফ্রিল্যান্সারদের সম্পর্কে কী লিখেছেন।

    যদি দেখেন একাধিক ফ্রিল্যান্সারকে কম রেটিং দিয়েছেন, কিংবা রিভিউয়ে বারবার অভিযোগের সুর, তাহলে সমস্যাটা সব ফ্রিল্যান্সারের ছিল না। প্যাটার্নটাই উত্তর।

    একজন ক্লায়েন্ট যদি পাঁচজন ভিন্ন ফ্রিল্যান্সারকে খারাপ রিভিউ দিয়ে থাকেন, ষষ্ঠজন হিসেবে আপনি ব্যতিক্রম হবেন এমন ভাবার কারণ নেই।

    জব ডেসক্রিপশনে যা খোঁজা উচিত

    ভালো জব পোস্টে সাধারণত থাকে কাজের পরিধি, ডেলিভারির সময়, আর কী ফরম্যাটে ফাইল দরকার। এসব থাকলে বুঝবেন ক্লায়েন্ট আগে ভেবে নিয়েছেন।

    বিপরীতে যেসব লক্ষণ দেখলে সরে আসা ভালো:

    • “দীর্ঘমেয়াদি কাজ আছে” লেখা আছে কিন্তু প্রথম কাজের বাজেট খুব কম।
    • বাজেট আর কাজের পরিমাণে বিশাল অমিল, যেমন ২০টি ভিডিও ৫০ ডলারে।
    • শুরুতেই বিনামূল্যে স্যাম্পল বা টেস্ট চাওয়া হয়েছে।
    • আপওয়ার্কের বাইরে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    শেষেরটি শুধু খারাপ লক্ষণ নয়, এটি আপওয়ার্কের নীতিমালার লঙ্ঘন। এতে আপনার অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    ২০২৬ সালে যা বদলে গেছে

    আপওয়ার্কের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এআই সম্পর্কিত কাজে ক্লায়েন্ট নিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ১০৯ শতাংশ বেড়েছে। এআই ভিডিও এডিটিং বিভাগে বৃদ্ধি ৩২৯ শতাংশ, যা সব বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    কিন্তু একই প্রতিবেদনে আরেকটি তথ্য আছে, যেটি কম আলোচিত। কাজের সংখ্যা বাড়লেও এসব বিভাগে গড় আয় কমেছে। অর্থাৎ কাজ বেশি, কিন্তু প্রতিটি কাজের দাম কম।

    এর মানে ক্লায়েন্ট যাচাই এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি। কম বাজেটের কাজের সংখ্যা বেড়েছে, তাই কোনটিতে সময় দেবেন সেই সিদ্ধান্তই আপনার আয় ঠিক করবে।

    আমার ৬০ সেকেন্ডের চেকলিস্ট

    1. পেমেন্ট ভেরিফায়েড কি না দেখুন।
    2. হায়ার রেট দেখুন, ৪০ শতাংশের নিচে হলে ভাবুন।
    3. ক্লায়েন্টের দেওয়া আগের রিভিউগুলো পড়ুন।
    4. বাজেট আর কাজের পরিমাণ মিলছে কি না যাচাই করুন।
    5. বাইরে যোগাযোগের অনুরোধ আছে কি না দেখুন।

    পাঁচটি ধাপের কোনো একটিতে সমস্যা মানেই বিড করা যাবে না তা নয়। কিন্তু দুটি বা তিনটিতে সমস্যা থাকলে কানেক্ট অন্য কোথাও খরচ করাই ভালো।

    শেষ কথা

    বেশি বিড করা কৌশল নয়। ঠিক জায়গায় বিড করাই কৌশল।

    আমি এখন আগের চেয়ে অনেক কম প্রপোজাল পাঠাই, কিন্তু রেসপন্স রেট অনেক বেশি। কারণ যে কাজগুলোতে বিড করি, সেগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার প্রকৃত সম্ভাবনা থাকে।

    আর যে ক্লায়েন্ট আগে থেকেই স্পষ্ট করে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করাটাও সহজ হয়। ভালো ক্লায়েন্ট বাছাই করা মানে শুধু কাজ পাওয়া নয়, ভালো অভিজ্ঞতাও।

    Ad space, reserved

    Similar Posts

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *